গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংকটের ফলে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের উৎপাদন ৩০-৩৫ লাখ টন পর্যন্ত কমে যেতে পারে। উদ্ভূত এ সংকট আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম রফতানির প্রায় ১৮ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। চলমান অস্থিরতার কারণে অ্যালুমিনিয়াম তৈরির প্রধান কাঁচামাল ‘অ্যালুমিনা’র সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করবে।
এরই মধ্যে হামলার কারণে এ অঞ্চলে বেশকিছু বড় উৎপাদন কেন্দ্র মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইজিএর আল তাউইলাহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার ফলে সেখানে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বাহরাইনের আলবা কারখানাটি কাঁচামালের অভাবে তাদের সক্ষমতার ১৯ শতাংশ বন্ধ করে দিয়েছে। গত ২৮ মার্চ একটি হামলার পর কারখানাটি এখন তাদের মোট সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এছাড়া কাতারের কাতালুম সক্ষমতার ৬০ শতাংশ নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের মা’আদেন জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেশী কারখানাগুলোকে কাঁচামাল সরবরাহ করে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেকে স্থলপথে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের কথা ভাবছেন, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদিত এ অ্যালুমিনিয়াম মূলত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোয় রফতানি করা হয়। ফলে সংকটের প্রভাব কেবল এ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়। গাড়ি নির্মাণ, আবাসন ও প্যাকেজিং শিল্পের মতো বড় খাতগুলো এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাজারে অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব পণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এ দাম কতটা বাড়বে তা নির্ভর করছে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তার ওপর। ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা রাশিয়ার মতো দেশগুলো উৎপাদন কিছুটা বাড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যের এ বিশাল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির একটি নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।